
বর্তমান করদাতার সংখ্যা: দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএনধারী) রয়েছে, কিন্তু এই বছর আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন মাত্র ৪২ লাখ ৫০ হাজার করদাতা। এর মানে, একটি বড় অংশ এখনও রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ৩১ মার্চ রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ায়, যারা রিটার্ন জমা দেননি, তাদের কঠোর আইনি ও আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
আইনি জটিলতা: আয়কর আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে করদাতাদের পাঁচ ধরনের গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
১. জরিমানা: আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুযায়ী, রিটার্ন জমা না দিলে সর্বশেষ নিরূপিত করের ওপর ১০ শতাংশ জরিমানা আরোপ করা হবে, যার সর্বনিম্ন পরিমাণ ১ হাজার টাকা। উপরন্তু, দেরির জন্য প্রতিদিন ৫০ টাকা অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে।
২. কর রেয়াত বাতিল: নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন জমা দিলে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত, যেমন সঞ্চয়পত্র বা শেয়ারবাজারের সুবিধা, পাওয়া যাবে না। ফলে করদাতার ট্যাক্সের চাপ আরও বেড়ে যাবে।
৩. অতিরিক্ত করের বোঝা: নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন জমা দিলে মোট করের ওপর প্রতি মাসে ২ শতাংশ অতিরিক্ত কর বা বিলম্ব ফি পরিশোধ করতে হবে।
৪. পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন: কর কর্মকর্তাদের হাতে এখন বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। রিটার্ন জমা না দিলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিতে পারেন তারা।
৫. বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে সমস্যা: সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমার উপরে বেতন পেতে রিটার্ন জমার কপি বাধ্যতামূলক। সময়মতো এটি জমা না দিলে বেতন আটকে যাওয়ার মতো বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে।
রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণ: বিশেষজ্ঞ ও এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, কিছু কারণে মানুষ আয়কর রিটার্ন দিতে উৎসাহিত হন না:
জটিল হিসাব পদ্ধতি: করের হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত জটিল হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তা করা কঠিন।
হয়রানির ভীতি: একবার করের তালিকায় ঢুকে গেলে প্রতি বছর হয়রানির শিকার হতে হবে—এমন আতঙ্ক সাধারণ মানুষের মনে কাজ করে।
উচ্চ করহার: বাংলাদেশে করের হার ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত, যা অনেকের কাছে অত্যধিক মনে হয়।
সেবা প্রাপ্তিতে অসন্তোষ: কর প্রদান করেও রাষ্ট্র থেকে যথাযথ সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ অনেককে রিটার্ন জমা দিতে নিরুৎসাহিত করে।
রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা: উল্লেখ্য, বছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি আয় থাকলে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে নির্দিষ্ট কিছু নাগরিক সুবিধা, যেমন ট্রেড লাইসেন্স, ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ বা গাড়ি কেনা, পেতে আয় কম হলেও রিটার্ন জমা দেওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।